নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ‘২৪/৭ জরুরি প্রসব সেবা’র সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে দিনের বেলা তালাবদ্ধ থাকে কেন্দ্রটি, আর রাতের বেলা জনশূন্য অবস্থায় ভেতরে লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়—যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে গত ১২ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এতে সেবা নিতে আসা প্রসূতি মায়েরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বড় চৌধুরীপাড়া থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসা ভুক্তভোগী মাহি বলেন, “সকাল থেকে এসে বেলা সাড়ে ১১টাতেও হাসপাতাল বন্ধ পেয়েছি। আগেও দুইবার এসে ফিরে গেছি। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও কেন বন্ধ, তা বুঝতে পারছি না।”
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মী মাঠপর্যায়ের ‘স্যাটেলাইট ক্লিনিক’-এ রয়েছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছুক্ষণ পর দুপুর ১টার দিকে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রওশন ফারহানা ইয়াসমিন কেন্দ্রে এসে হাজিরা দিয়ে পুনরায় তালা লাগিয়ে চলে যান, যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘লোক দেখানো’ পদক্ষেপ।
রাতেও কেন্দ্রটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওইদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও ভেতরে লাইট জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, সেবার ভান তৈরি করতে এভাবে লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়।
ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আজিম কাজল বলেন, “এই কেন্দ্রের অনিয়ম এখন চরমে পৌঁছেছে। বারবার সতর্ক করার পরও কোনো উন্নতি হয়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও ইউএনওকে জানানো হবে।”
মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. আসিফ আহমেদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে আগেও শোকজ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

