কক্সবাজার জেলার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ উপজেলা ঈদগাঁও—যা দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলার মানুষের একটি প্রধান দাবি হলো একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন।
প্রায় ২১.২৫৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে ১১টি পেট্রোল ও গ্যাস পাম্প, ৭৬টি তফসিলি ও বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান, ২২টি হাসপাতাল এবং ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ঈদগাঁও বাজার ও আশপাশ এলাকায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল, প্রসাধনী দোকান ও সুপারশপ রয়েছে। এছাড়া ইসলামপুর শিল্প এলাকায় প্রায় ৯৫টি লবণ ক্রাশিং সল্ট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে।
এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় স্থানীয় প্রায় দেড় লাখ মানুষ অগ্নিনির্বাপনসহ জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ পার্শ্ববর্তী রামু ও চকরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্বের কারণে জরুরি মুহূর্তে সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে ঈদগাঁও উপজেলাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন আইনবিশারদ অ্যাডভোকেট আহমদ ফারুকী। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দেন।
আবেদনে তিনি ঈদগাঁও উপজেলায় দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ দাবি বাস্তবায়ন হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

