কক্সবাজারের রামুতে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক ঘটনায় প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, অন্য ঘটনায় এক কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকায় কালু বড়ুয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে বাড়ির বাইরে বের হলে অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া হঠাৎ ধারালো দা নিয়ে এলাকায় ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় কালু বড়ুয়া বিষয়টি জানতে চাইলে কোনো কথা না বলেই তার ওপর হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় এবং পরে মাটিতে ফেলে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া আত্মসমর্পণ করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
এদিকে, ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিক। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণের সময় তাকে মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণকৃত ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, এর আগের দিন রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের শ্রীধনপাড়া এলাকায় সনিত্যা দেবী চাকমা (মায়া) (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রায় দুই বছর ধরে স্থানীয় একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, বাড়ির রান্নাঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।
অন্যদিকে, গৃহকর্তা পরিবার জানায়, তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
দুই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটিও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

