সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাবি মহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য (বহিষ্কৃত) মাহি চৌধুরী অর্ণবকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা, আত্মসাৎকৃত অর্থের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।
শুনানিতে বাদীপক্ষে আইনজীবী আতিকুজ্জামান মোল্লা, আবির হোসেন তালুকদার ও রাজন চন্দ্র ঘোষ রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে খোরশেদ আলম ভূইয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ জুন থেকে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকের একটি ‘ইনভেস্টর গ্রুপ’-এর মাধ্যমে মাহির সঙ্গে বাদীর বড় ভাই শাকিরুল ইসলাম হিমেলের পরিচয় হয়। মাহি নিজেকে একটি ক্যাটারিং ও অ্যাকসেসরিজ ব্যবসার অংশীদার দাবি করে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেন।
তার কথায় বিশ্বাস করে হিমেল বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদে মোট ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ১৫০ টাকা দেন। কিন্তু কোনো লভ্যাংশ বা মূল টাকা ফেরত না দিয়ে মাহি আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে গত ৫ এপ্রিল বাদী মো. সামসুল হক তুষার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাহি চৌধুরী অর্ণব, তার পিতা নাজমুল করিম চৌধুরীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

