রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা, এনজিও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির মহাসচিব ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমনে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি এনজিওগুলোর কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিও ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দ সহায়তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে বনভূমি ও পাহাড়ের ক্ষতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ, মাদক পাচার ও মানবপাচারের মতো বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী হোস্ট কমিউনিটির জন্য নির্দিষ্ট সহায়তার বিধান থাকলেও বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় জানিয়েছে, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয় ও সুরক্ষাসহ জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

