কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজার সংলগ্ন লম্বাশিয়া সড়কে পরিচালিত একটি কথিত "মেডিকেল ট্রেনিং সেন্টার"-কে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সেখানে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কোর্সের নামে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কুতুপালং বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে DMS, BMS, LMFসহ বিভিন্ন নামে কোর্স চালু করে প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তি করানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের আইডি কার্ড ও সনদপত্র (সার্টিফিকেট) প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কথিত রোহিঙ্গা ডাক্তার জাফর আলম ডিপু ও পনেশ বড়ুয়ার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে ইনজেকশন প্রয়োগ, স্যালাইন পুশ, ক্ষতস্থানে সেলাই ও ড্রেসিংসহ বিভিন্ন চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কোনো অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে একই সড়কে অবস্থিত সিরাজুল ইসলাম ফার্মেসিতে জাফর আলম ডিপু নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ও বৈধ নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা প্রদান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সেবা পরিচালিত হলে ভুল চিকিৎসা, রোগীর জীবনহানি এবং স্বাস্থ্যখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন:
"সরকারি অনুমোদন ছাড়া যদি চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এসব কার্যক্রম চলছে—তা দ্রুত তদন্ত করে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত।"

