পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরানো হলেও, তার নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য ছিল। তার দেড় বছরের দায়িত্বকালে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ফাঁসিসহ বিভিন্ন কারাদণ্ড হয়েছে। বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর ও তার টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফলে ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়েছে।
নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেন, “যেসব বিচার চলমান আছে এবং আগামীদিনে যেসব মামলা আসবে, আমি সম্পূর্ণরূপে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের প্রাপ্য সাজা পাবে, অন্যায়ভাবে কেউ হয়রানির শিকার হবে না।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন।
তাজুল ইসলামের দায়িত্বকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ মোট ২৪টি মামলা দাখিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২১টি বিচারাধীন এবং ৩টির রায় ঘোষণা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এ দু’টি, ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ে ২৬ জন দণ্ডিত হয়েছেন। বিচারাধীন মামলার মধ্যে রয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা, রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুম-নির্যাতনের মামলা।
তাজুল ইসলানের নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাহসী ও দৃঢ় ভূমিকা পালন করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক চাপ, বাধা ও হুমকি উপেক্ষা করে বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে পলাতক ও গ্রেপ্তার আসামিদের বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম হবিগঞ্জের সন্তান। তিনি আগে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং আগামীদিনে নতুন মামলাগুলো দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যক্রমে আনা হবে।
জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলায় নতুন সরকারের অধীনে বিচারকাজ মন্থর হবে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং প্রাপ্য সাজা নিশ্চিত করা হবে।”
বিদায়ী তাজুল ইসলামও সাংবাদিকদের জানান, “রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক। নতুন চিফ প্রসিকিউটরও বিচারপ্রার্থী ও আহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো আর কখনো এমন মানবতাবিরোধী অপরাধ যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।”
এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা, সুষ্ঠু ও দ্রুততার উপর নজর রাখার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিচারকাজে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং মানবাধিকারের সংরক্ষণই মূল চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের জনগণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত।

