রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযানে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে লাঠিপেটা করা হয়। একই সময়ে তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে সংঘটিত হয়।
ঢাবির শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “অত্যধিক পুলিশি আচরণ ও লজিক্যাল আলাপ চলাকালীন মারধর ও ফোন জব্দ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।” বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি শিমুল কুম্ভকার বলেন, “পুলিশ যদি আইন অমান্য করে, তা আইনের শাসনের পরিপন্থি।”
ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমান অভিযোগ করেছেন, অভিযানের নামে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দও একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
একই অভিযানে আটক এক ব্যক্তি নিজেকে ঢাবির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে মাদকসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে এবং ছুরি দিয়ে আঘাতের অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে স্থায়ীভাবে মাদকমুক্ত করতে টেকসই পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন।
জখম সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, লাইভ ভিডিও করার সময় পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে লাঠিপেটা চালিয়েছে এবং মোবাইল ফোনও জব্দের চেষ্টা করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।

