এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী
রাজাকার ও জুলাই যোদ্ধা ২০২৪ সহ সঠিক মুক্তিযোদ্ধা তালিকা চাই বর্তমান প্রজন্ম।
‘রাজাকার’ একটি গালি এবং স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের প্রতীকী পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ‘রাজাকার’ ছিল মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী সহ হানাদার বাহিনীর অধীন একটি সংস্থা বা বর্তমান আনসার ভিডিপি বাহিনীর মত একটি সংগঠন। হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য এই সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। হানাদার বাহিনীকে রাস্তা ও স্বাধীনতা বিরোধী গঠনের লোকজন পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য মূলত এই বাহিনী গঠন। এই বাহিনী গঠন হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।এই রাজাকার বাহিনীর মাধ্যমে পরিচিত হয়ে রাজাকারের সহায়তায় পাক বাহিনী নারী নির্যাতন,স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি খুন, স্বাধিনতাকামি মানুষের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া সহ হাজারো নির্যাতন বাংলার মানুষের উপর চালিয়ে ছিল।
কিন্তু এখন এই বাহিনীর সদস্যদের তথ্য বা তালিকা মিলছে না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘রাজাকারের তালিকা’ প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছে। এটি ‘রাজাকার বাহিনী’র তালিকা নাকি স্বাধীনতাবিরোধী দালালের তালিকা তা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকা পালনকারী ও গণহত্যায় সম্পৃক্ত অন্যান্য বাহিনী বা সংগঠনের মতো রাজাকার বাহিনীরও দায় চিহ্নিত হয়নি, কখনো বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়নি।বর্তমানে অনেক রাজাকার মারা গেলেও দুই এক জন যারা বেচে আছে তারা আনসার বাহিনী পরিচয় দিয়ে থাকে।সঠিক কোন তথ্য রাজ দরবার অথবা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ে না থাকার কারনে বর্তমান প্রজন্মের মত বিভিন্ন ভাবে ভুল তথ্য দিয়ে ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। অনেকাংশে দেখাযায় যারা মুসলিম লীগ,নেজামে ইসলাম সহ পাকিস্তানের সাথে সরিক দল ছিল সব দলের মানুষকে রাজাকার বলে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত যে ১০৩ জনের বিচার শেষ হয়েছে তার মধ্যে বেশ কয়েকজন রাজাকারও আছে।আবার জোর পুর্বক অন্যায় ভাবে রাজনৈতিক নেতার বিচার করে বে-আইনী ভাবে নিরীহ নির্দোষ ব্যক্তিদেরকে ফাঁসির কাঠগড়ায় নিয়েছে মর্মে হাজারো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারন হচ্ছে সঠিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে না থাকার কারন।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধিনতার যুদ্ধের ইতিহাস ভারতে সংরক্ষিত থাকলে ও আমাদের ১৯৭১ সালের স্বাধিনতা যুদ্ধের কোন তথ্য আমাদের মুক্তি যুদ্ধ মন্ত্রনালয়ে আছে বলে মনে হয় না। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া আন্দোলনের কোন সঠিক তথ্যও এখনো প্রচার করা হয়নাই।সেই জুলাই যুদ্ধে কতজন যোদ্ধা এবং সরকারী দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি মারা গেছে তার হিসাব যদি সরকারী ভাবে না থাকে জুলাই যোদ্ধারা ও মহান স্বাধিনতা যুদ্ধাদের তালিকার মত বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।এখনো সময় আছে অতি দ্রুত জুলাই যুদ্ধে মৃত শহীদদের সঠিক তালিকা সহ জুলাই যুদ্ধের বীর সৈনিকদের পূর্নাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দাবী।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত তিন/চার বছর পূর্বে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘রাজাকারের তালিকা প্রথম পর্ব’ প্রকাশ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল। সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত রেকর্ড এবং জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে ‘রাজাকারের তালিকা’ প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১১ হাজার জনের তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলার পরও এখনো জাতি সে তালিকার সন্ধান পাইনাই। যার কারন হচ্ছে যারা সরকারী দলের মসনদে বসে তাদেরকে ব্যবহার করে নিজের শত্রু দমন পীড়নের জন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহন করা ব্যক্তিদের কারনে সঠিক তথ্য প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ৩/৪ বছর পূর্বে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সে অনুসারে যেসব রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের সময় থানা ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা নিত তাদের তালিকা পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর পর মন্ত্রণালয় সূত্র জানায় মাত্র ১০ জেলার মধ্যে ৬ টি জেলার ৩৯৯ জন রাজাকারের তালিকা আসে। ৪ টি জেলায় কোন রাজাকার বেতন ভাতা নিয়েছে এমন কোন তথ্য নাই বলে প্রতিবেদন দেন। বাকি জেলা সমুহ কোন তথ্য প্রদান করেনাই। ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ১০ টি জেলা তথ্য পাঠালেও বাকি ৫৪ জেলা কেন রাজাকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান নাই তার ব্যাখ্যা ও নেওয়া হয়নাই বলে প্রতিয়মান হয়।
যে সমস্ত জেলা সমুহ তালিকা দিয়েছিল সে সব জেলা হচ্ছে ঃ- ১। যশোরে ১২৬, ২। চাঁদপুরে ৯,৩।মেহেরপুরে ১৬৯, ৪।শরীয়তপুরে ৪৪, ৫।বাগেরহাটে এক এবং ৬।নড়াইলে ৫০ জনের নাম আছে।
খাগড়াছড়ি, মাগুরা, শেরপুর, গাইবান্ধা জেলায় কোনো বেতনভোগী রাজাকার ছিল না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘রাজাকারের তালিকা’ প্রকাশের সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠালে সেখান থেকে প্রায় ১১ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। জানা গেছে, স্বাধীনতার পর দালাল আইনে যেসব ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছিল সেই মামলাগুলোর রেকর্ড থেকে ওই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালে কয়েক ভাগে বিভক্ত মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, পিডিপির নেতাকর্মীরা ব্যক্তি পর্যায়ে কিংবা ‘শান্তি কমিটি’, রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী, আলশামস বাহিনীর ব্যানারে পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা ছাড়াও হত্যা, ধর্ষণ, লুট, নির্যাতন চালিয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে এদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সে হিসেবে এই তালিকাকে ‘রাজাকার তালিকা’ নয়, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দালালের তালিকা বলা উচিত বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধের গবেষকরা।তাই উক্ত তালিকা ও প্রকাশ পায় নাই।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে গবেষক মেজর (অব.) এ এস এম শামসুল আরেফিন এক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রাজাকার বাহিনী ছিল পুলিশের সহযোগী বাহিনী। এদের নিয়োগ দিয়েছে পুলিশ, ট্রেনিং দিয়েছে পুলিশ। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, রাজাকার বাহিনীতে ৫০ হাজার নিয়োগ দেওয়ার টার্গেট ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজারের মতো লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই তালিকা সংগ্রহও করেছিলেন বলে ও উল্লেখ করেছিলেন। সেই তালিকা থেকে বিভাগভিত্তিক তালিকা কয়েক খণ্ডে ‘রাজাকার ও দালাল অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের তালিকা’ গ্রন্থে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবী করেন। এতে ১২-১৪ হাজার ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজাকার’ একটি নির্দিষ্ট বাহিনী। তার সংজ্ঞাও নির্ধারিত। ‘রাজাকার’ বললে ওই বাহিনীর সদস্যদেরই বোঝায়। অন্যদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত বলে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান জানিয়ে ছিলেন, ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর ‘রাজাকার’ তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। জেলা-মহকুমা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে এটা পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ৬৪ জেলা ও আনসার হেডকোয়ার্টার্সে লিখেও সেই তালিকা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু ঐ তালিকা সমুহে দেখা গেছে,প্রকৃত তথ্য আসেনি। কেউ প্রলোভনে পড়ে, কেউ আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে, কিংবা নানা কারণে অনেক নাম বাদ দেন। এই কারণে আমরা আর ওই তালিকার ওপর নির্ভর করতে পারিনি বলে জানান।
আব্দুল হান্নান খান বলেন, ‘আনসার বাহিনীতে যারা ছিল তারা তো ছিল বাঙালি। পাকিস্তান বাহিনীকে ধারণা দেওয়া হলো, এদের বিশ্বাস করা যায় না; এরা অনেকে পালিয়ে যেতে পারে, কেউ কেউ পালিয়েও গেছে। সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পাকিস্তান ভাবাপন্নদের নিয়েই বাহিনী গঠন করতে হবে। এর পরই রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। এ কারণেই শহর অঞ্চলে যেখানে বিহারিরা ছিল সেখানে তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ট্রেনিং নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে; তেমনই রাজাকাররাও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা নিত, প্রশিক্ষণ নিত, তাদেরও নির্দিষ্ট তালিকা থাকার কথা।’
একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলে ছিলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে ঘাতকদের সম্পর্কে পরিচিত করতে সব বাহিনীর মতো রাজাকার বাহিনীরও তালিকা তৈরি করা জরুরি। এই দাবি আমরা ১৯৯৫ সাল থেকে করে আসছি। তবে এই তালিকা আমলাদের দিয়ে হবে না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাঁদের সম্পৃক্ত করেই এই তালিকা করতে হবে। না হলে এ নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হতে পারে।’
তৎকালিন ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাজাকার বাহিনীকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অধীনে ন্যস্ত করা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘শান্তি কমিটি’র তত্ত্বাবধানে ছিল রাজাকার বাহিনী। শান্তি কমিটির নেতারাই রাজাকার বাহিনীর সদস্য রিক্রুট করতেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজাকার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল পাক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর হাতে। তবে রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ করা হয়েছিল বর্তমান এক জামাত নেতা মোহাম্মদ ইউনুসকে।তিনি বর্তমানে বেচে আছে কি নাই তা সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নাই।
আজাদুর রহমান চন্দন এর লিখা এক বই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা ভবনসংলগ্ন মাঠে এবং মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট মাঠে রাজাকারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। পাকিস্তানি কূটনীতিক ও গবেষক হুসাইন হাক্কানির ‘বিটুইন মস্ক অ্যান্ড মিলিটারি’ গ্রন্থের বরাত দিয়ে লিখেন, একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এক লাখ সদস্যের রাজাকার বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫০ হাজার নিয়োগ দিয়েছিল।’ এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘রাজাকারদের দুই থেকে চার সপ্তাহের ট্রেনিং দেওয়া হতো। অস্ত্র হিসেবে দেওয়া হতো থ্রি নট থ্রি রাইফেল। প্রথম দিকে একজন রাজাকারের মাসিক বেতন ছিল ৯০ টাকা। তা বাড়িয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে একজন রাজাকার সদস্যের মাসে ১২০ টাকা, রাজাকার প্লাটুন কমান্ডারের ১৮০ টাকা এবং রাজাকার কোম্পানি কমান্ডারের ৩০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়।’ জেনারেল রাও ফরমান আলীকে উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বরের এক রিপোর্টে বলা হয়, ওই সময় পর্যন্ত রাজাকারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০ হাজারে।
মুক্তিযোদ্ধের অনেক গবেষকদের মতে আবার ভিন্ন মতও পাওয়া গেছে।
যেমন ঃ- তৎকালীন বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অনেক রাজাকার বাধ্য হয়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। তাদের মধ্যে নাকি অনেক রাজাকার সুযোগমতো মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দিয়েছে, কেউ কেউ নাকি অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গিয়েও দেশ স্বাধীন করার কাজে প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে সহায়তা করেছে।
তাই সবদিক বিবেচনা করে সঠিক তথ্য সম্মিলিত একটি মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা সহ দেশদ্রোহী রাজাকারের তালিকা চাই বর্তমান প্রজন্ম।
সর্বোপরিঃ- মানবতা ও আত্মীয়তার বন্ধনের কারনে রাজাকারের তালিকা প্রচার করা সম্ভব না হলে ও ১৯৭১ সালের স্বাধিনতা যুদ্ধের শহীদ ও ২০২৪ সালের জুলাই শহীদ সহ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশ করুন।

