এলাকায় প্রবেশে পড়বে বিশেষ চেকপোস্ট, অপরিচিত কেউ গেলেই দৌড়ে আসেন সিন্ডিকেট সদস্য। করে বসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো নানান প্রশ্ন। এখানে অপরাধ-অনিয়ম যেন নিয়মেই পরিণত। ভয়ে কেউ কথা বলছে না। একটি মানুষের মরদেহ দিনে দুপুরে গুমের পরিকল্পনা। পাহাড় ধসে শিশুর মৃত্যু ধামাচাপা পড়ে গেছে লিয়াকতের প্রভাবে। বলছিলাম কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরী ও সিকদার পাড়ার কথা।

পাহাড়ঘেরা এলাকা দুইটিতে চলছে পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলনসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ড। নিয়মিত হচ্ছে খুন-গুমের মতো ঘটনা। যেখানে অসহায় পুলিশও। এ যেন বন্দর নগরীর জঙ্গল সলিমপুরের মতো আরেক সাম্রাজ্য। যে রাজ্যের রাজা বনে আছে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলী।
আছে কয়েকটি বাহিনী। পাহাড়- বালু উত্তোলনে কাজ করেন ভিন্ন ভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। যেখানে লিয়াকতের অন্যতম হাতিয়ার আয়ুব ও ইদ্রিস। যাদের নেতৃৃত্বে কাজ করেন কয়েক শ সদস্য। এখানে ভয়ে কেউ মূখ খুলেন না। তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক নারী বলছেন- ভোররাতে লিয়াকতের পাহাড় কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে মারা গেছেন আজিজ নামে একজন শ্রমিক। যার মরদেহ গোপনে দাফনের চেষ্টা করা হচ্ছে এমন খবরে ঘটনাস্থলে পুলিশ।
ওই নারীর দাবী- এখানে পাহাড় ও খাল থেকে বালু তুলেন লিয়াকত ও তার অনুসারীরা। বিভিন্ন সময় পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যেগুলো ধামাচাপা পড়ে যায় লিয়াকতের প্রভাবে। মূখ খুলতেও চান না কেউ।

লিয়াকত যে প্রভাব বিস্তার করছেন তার প্রমাণ মিলেছে পুলিশের মাঝে। আসামী গাড়ীতে তোলার পর থানায় না নিয়ে ঘনাস্থল থেকে ৫ কিলোমটার দূরে লিয়াকতের অপেক্ষায় ছিলেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন।
প্রশ্ন করা হলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। দাবি করেন যাচাই-বাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।

তবে পুলিশের গাড়ী যে আটকে রেখেছেন লিয়াকত। তার প্রমাণও মিলেছে। পুলিশের গাড়ীর সামনেই দাড়িয়ে ছিল লিয়াকতের গাড়ী। অভিযোগ উঠেছে অর্থের বিনিময়ে আসামীকে ছাড়িয়ে নেয়া ও মরদেহ হাসপাতালে না নিতে সমঝোতা করছিল পুলিশ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিয়াকত আলী দাবি করেন, এলাকার মানুষ হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। বাকিসব বিষয় মিথ্যে বলে দাবি তার।
গেল কয়েকদিন ধরে জুলাইযোদ্ধা খোরশেদ হত্যা ও পরবর্তীতে তার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন আর আজকে শ্রমিকের মরদেহ নিয়েও পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নিবিদ্ধ।

