প্রশাসনের আস্কারায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে পালংখালীর বালু মহাল ইজারাদাররা। উখিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত আরও একাধিক বালু মহালে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও পালংখালীর বালু মহাল ও ইজারাদার রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জানা যায়- ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ৪ পদধারী নেতার নেতৃত্বে এই বালু মহাল হতে বালু উত্তোলন এবং বেচাকেনা চলছে। এদের মধ্যে রয়েছে মূল ইজারাদার পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী, সিন্ডিকেটে রয়েছে- উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য জিয়াউল করিম রিয়াদ, পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহআলম এবং পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন চৌধুরী।
এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে ইজারাদার রায়হান জানান- ‘‘আমরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বৈধভাবেই উক্ত বালু মহাল ইজারা নিয়েছিলাম। পরে আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আসার পর জেলা প্রশাসনের সাথে যোগযোগ করি। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো ধরণের নির্দেশনা না দেওয়ায় আমরা বালু উত্তোলন ও বেচাবিক্রি অব্যাহত রাখি।’’
বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটের অপর সহযোগী বিএনপি নেতা শাহ আলমের সাথে কথা হলে তিনিও প্রায় একই দাবী করেন প্রতিবেদকের কাছে। তবে তাদের কেউই আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলনের যৌক্তিক কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
এব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিদুল আলম, উখিয়ার সহকারী ভূমি কমিশনার শারমীন সুলতানা এবং সংশ্লিষ্ট বনকর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কেউই ফোন রিসিভ না করায় কর্তৃপক্ষের কারও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট (রোববার) কক্সবাজারে সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে এবং এর আশপাশে দেওয়া ৯টি বালু মহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করেছে আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে এ ৯টি বালু মহাল বিধি বহির্ভূতভাবে ইজারা প্রদানের উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত করা সংবিধান ও অন্যান্য আইনের পরিপন্থি বিধায় কেন তা বেআইনি, আইনি কর্তৃত্ববিহীন ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেছিলেন আদালত।
বালু মহালগুলো বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে এবং ইজারাযোগ্য বালু মহালের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে বনাঞ্চল সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা বালু মহালগুলো হলো—চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী-১, রামু উপজেলার ধলীরছড়া ও পানিরছড়া, উখিয়া উপজেলার বালুখালী-১, দোছড়ি, পালংখালী, হিজলিয়া, ধোয়াংগারচর ও কুমারিয়ারছড়া।
আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না বলেন, এই ৯ বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রধান বন সংরক্ষক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, উল্লিখিত বন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ইজারা গ্রহীতাসহ অন্যান্য দোষী ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত এবং বালু উত্তোলনের কারণে বনের যে ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে প্রতিবেদন আকারে তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় বেলার পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।

