গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের কলাতলীর সায়মনবীচ হোটেলের পাশে মোটর সাইকেল রাখা প্রসঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর একপক্ষের জামাল নামের এক ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম সামি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সদর থানায় মামলা (নং-২২/১৫২) দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এস আই সুস্ময় দাশকে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ ঘটনায় কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। মারামারির ঘটনায় চাঁদাবাজির ধারা যুক্ত করায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে- গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ মার্চ থেকে আরিফকে পুলিশ হেফাজতে রেখে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা ইউনিট ইনচার্জ বিষয়টি আদালতকে অবগত করেননি। ফলে তিনি সময়মতো জামিনের আবেদন করতে পারেননি। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে- আরিফ গুরুতর আহত হলেও তার পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা নিতে শুরুতে অনীহা দেখায় সদর থানা পুলিশ। আরিফের মায়ের দাবি, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তার ছেলের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে আরিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে ১০ মার্চ মামলা (নং-৩৪/১৬৪) আমলে নেওয়া হয়। ওই মামলার তদন্তভারও সুস্ময় দাশকে দেওয়া হয়।
আরিফের মায়ের আরও অভিযোগ- তার ছেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে থাকলেও বিষয়টি আদালতকে না জানানোয় তিনি জামিন চাইতে পারেননি। এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং ১৭ মার্চ তাকে ওই বিতর্কিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, আরিফের বিরুদ্ধে আগের একটি নিয়মিত মামলা থাকলেও তাকে ওই মামলায় আটক দেখানো হয়নি। একটি ঘটনা ধামাচাপা দিতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আরও বড় ধরনের ভুল করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে থানাজুড়ে আলোচনা চলছে। এব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই সুস্ময় দাশের দাবী- তিনি আরিফের পূর্বের মামলা ওয়ারেন্ট থাকার বিষয়টি জানতেন না।
আরেকটি সূত্র জানায়, পাল্টাপাল্টি মামলায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। আরিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি কলাতলীর ঝিরঝিরি পাড়ার সোহেল জানুয়ারি মাস থেকেই কারাগারে ছিলেন এবং ৯ মার্চ জামিনে মুক্তি পান। অথচ আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ৫ মার্চ। অর্থাৎ ঘটনার দিন তিনি কারাগারেই ছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই সোহেল জামিন নেওয়ার আগেই পুলিশের সামনেই আরিফকে কোলে করে আদালতে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
এ দুই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন গাফিলতি কীভাবে ঘটতে পারে, তা নিয়েও সমালোচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন নাম্বারে সংযোগ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই সুস্ময় দাশের সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান- মামলা কিংবা পুরো ঘটনায় তিনি কোনো ভাবেই প্রভাব বিস্তার করেননি। সেই সাথে মামলায় যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে এর দায় তার নয়; বরং তার উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষের।
এব্যাপারে মতামত দিয়েছেন জেলার একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি বলেন- কোনো আসামিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে রাখলে তাৎক্ষণিকভাবে আদালতকে অবগত করা আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আদালতকে না জানিয়ে কাউকে হেফাজতে রাখা এবং পরবর্তীতে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো স্পষ্টতই আইনের লঙ্ঘন এবং গুরুতর অসদাচরণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আসামির সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

