আমার স্বামী নেই। আমার তিন সন্তান এতিম হয়ে গেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক সিরাজুল ইসলামের হত্যাকারীদের বিচার চাইলেন তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল মোস্তফা মনি।
কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্বামীর হত্যার ৫ মাস হয়ে গেল। তারপরও পুলিশ তিনজন ছাড়া অন্য আসামিদের ধরতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, যারা আমাকে এ বয়সে বিধবা করছে, আমার সন্তানদের এতিম করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচার করেন। যাতে কেউ আর কারো এভাবে স্বামী হারানো না লাগে। আর কোনো সন্তানকে যেন এভাবে বাবা হারা না হইতে হয়। মায়ের পাশেই দাঁড়িয়ে কাঁদছিল সিরাজুল ছোট মেয়ে ইনতাশি মনি। চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘আমি বাবা বলে ডাকতে পারছি না। আমার বাবার হত্যাকারী বিচার চাই। গ্রেফতারকৃত সোহেলের ফাঁসি চাই’।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী নিহত সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তাঁরা।
হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী গ্রেপ্তারকৃত সোহেল আহমদসহ, জাহাঙ্গীর, ইউসুফ আলী, কপিল উদ্দিন, ইউনুস,রহিম উদ্দিন, গিয়াসউদ্দিন, কুতুবউদ্দিন,নুর মোহাম্মদ মনিক্কা, জুয়েল,মহিউদ্দিন, মো. আনোয়ার, মোরশেদ আলম,জয়নাল উদ্দিন,ইমাম শরিফ, মো. সোহেল, আব্দুল আজিজ,আবদুল হাফেজসহ অজ্ঞাত ৮-১০ আমার স্বামীকে গুলি করে খুন করেছে। আমার সন্তানদের এতিম করেছে। তাদের ফাঁসি চাই। গত রোববার রাতে চকরিয়া থানা পুলিশ সোহেল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে। তার ফাঁসি চাই। পরিবারে স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। আমার চারপাশে এখন শুধুই অন্ধকার। এসব কথা বলেন হত্যার শিকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জন্নাতুল মোস্তফা মনি।
নিহত সিরাজুল ইসলাম চিরিংগা ইউনিয়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী এলাকার ওমর আলী ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে এসে কৃষি কাজ করতেন।
স্ত্রী জন্নাতুল মোস্তফা মনি আরও বলেন, আমার স্বামী হত্যাকারী সোহেলের বাহিনীরা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাদের হত্যার ভয় দেখায়। আমরা পুরো পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি। আমার স্বামী হত্যাকারী সোহেল গ্রেপ্তার হলেও এ মামলার প্রধান আসামিসহ এখনও অনেক আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
গ্রেফতাকৃত সোহেল আহমদ চিরিংগা ইউনিয়নে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী এলাকার ইদ্রিস আহমদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে খোরশেদ আলম, শেখাব উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসেনসহ চারটি হত্যা মামলার আসামি।
এছাড়াও সোহেল আহমদ চিংড়ি ঘেরে নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য এলাকায় ৩০-৩৫ জনের একটি অস্ত্রধারী দল গঠন করে এলাকায় অবৈধভাবে জমি দখল, হুমকি, মারামারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, মারামারি, অপহরণসহ আটটির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে সিরাজুল ইসলামের বাবা ওমর আলী তার সন্তানকে এভাবে চলে যাওয়াটা মানতে পারছেন না। নিজেকে সামলানোর একাধিক চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাকে বক্তব্য রাখতে বলা হলে কান্নার বাঁধ আর থামাতে পারেননি তিনি। ছেলেকে হারিয়ে তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। অঝোরে কেঁদে ছেলে হত্যাকারী বিচার চাইলেন তিনি।
উল্লেখ- গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার চিংডি জোনের চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা এলাকায় সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় নিহত সিরাজুল ইসলামের বাবা ওমর আলী চকরিয়া থানায় জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে মামলা করেন।

