উখিয়ার জালিয়াপালংয়ের মাদারবনিয়ায় ইউপি সদস্য জাহেদের নেতৃত্বে চলছে মানবপাচার বাণিজ্য। গেলো দুই মাসে তার এলাকা মাদারবনিয়া থেকেই মানবপাচারের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ এর অধিক মানুষ। এদের অধিকাংশকেই জোর করে ধরে নিয়ে প্রথমে অপহরণ এবং পরবর্তীতে মালয়শিয়াগামী ট্রলারে তুলে দিয়ে পাচার করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ভিকটিমের পরিবারকে জিম্মি করে জোরপূর্বক বিপুল অংকের অর্থ আদায়, হুমকি ধমকি প্রদান সহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চক্রটি।
জানা যায়- জনপ্রতিনিধির আঁড়ালে ইউপি সদস্য জাহেদ মানবপাচারকারী চক্রটি গড়ে তুলেছে। এমনকি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ইনানী পুলিশ ফাঁড়িও। তার হয়ে দালালী কাজে জড়িত রয়েছে- একই এলাকার ইসমাইলের পুত্র আব্দুর রহমান প্রকাশ হাজীর নাতি এবং রশিদ আহমদের পুত্র আবু ছিদ্দিক প্রকাশ ফুতিয়া। এই দুই দালাল মাদারবনিয়া এলাকার প্রায় ৫০ এর অধিক মানুষকে জোরপূর্বক অবৈধ পথে মালয়শিয়া পাচার করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবিতে প্রায় ৩শতাধিক নাগরিকের নিখোঁজ ও হতাহতের খবর সামনে এলে ভিকটিমদের পরিবার থেকে চিহ্নিত এই দুই দালালের কথা উঠে আসে। এমনকি তারেক নামে একজন ভিকটিমের পিতা ছৈয়দ আলম বাদী হয়ে আব্দুর রহমান ও আবু ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে। এঘটনায় ফাঁড়ির আইসি দুর্জয় তদন্তে গেলে সেখানে উল্লেখিত দুই দালালের পক্ষ নিয়ে বাদী-বিবাদী ও পুলিশের মাঝে মধ্যস্থতা করে ইউপি সদস্য জাহেদ।
দালাল আব্দুর রহমানের হাতে পাচারের শিকার একই এলাকার অপর ভিকটিম ভাসাকালুর পুত্র রহমতুল্লাহ (২৮) এক ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত ব্যাক্তির সাথে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। এর জের ধরে দালাল আব্দুর রহমান ভিকটিম রহমতুল্লাহর পরিবারকে মারধর, নানা ভাবে হয়রানি ও হেনস্থা করতে থাকে। এঘটনায় ভিকটিমের পরিবার থানায় মামলার উদ্যোগ নিলে ইউপি সদস্য জাহেদ মেম্বার এখানেও হস্তক্ষেপ করে। রহমতুল্লাহর অভিযোগ- এভাবেই বিচার করে দেওয়ার নামে মানবপাচার কান্ডে জড়িত আব্দুর রহমান ও আবু ছিদ্দিককে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে এই ইউপি সদস্য।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাহেদের সাথে কথা হলে তিনি দাবী করেন- মানবপাচারকারী আব্দুর রহমান ও আবু ছিদ্দিকের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাঝে মধ্যে নিকটস্থ ফাঁড়ির আইসির সাথে দেখা সাক্ষাত হয়; এটাকে ফাঁড়ি পুলিশ নিয়ন্ত্রণ বলা যায় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে- মানবপাচারের শিকার প্রতিটি ভিকটিম থানা কিংবা আইনের আশ্রয় নিতে গেলে প্রতিবারই বাঁধা হয়ে দাঁড়ান তিনি। ‘বিচার’ করে দেওয়ার নামে মানবপাচারে জড়িত অপরাধীদের থানা পুলিশের ধরপাকড় থেকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন।

