বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টের আড়ালে মাদক সম্রাট নাছির-মুজিব-সাজ্জাদের যত অপকর্ম
কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোন কলাতলীতে অবস্থিত শালিক রেস্টুরেন্ট ঘিরে বিতর্ক যেনো পিছু ছাড়ছে না। প্রায় সময় এই রেস্টুরেন্টটির মালিক নাছির উদ্দিন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ লেগেই থাকে। সূত্র বলছে- মূলত মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগিতে গরমিল হলেই পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগ এনে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মুখোমুখি হন তারা।
সম্প্রতি গত ১১ মে (সোমবার) দুপুরে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে মুজিব অভিযোগ করেন- প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাছির ও তার সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ তাকে কৌশলে অপহরণ এবং প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই বলেও দাবী করেন মুজিব। এদিকে নিজেকে সামান্য ম্যানেজার এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দাবী করলেও এতো টাকার উৎস কোথায় জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে পরে কথা বলবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- মাদকের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এই তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়েছে তারা।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে রেস্টুরেন্টটির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে সাইফুল ইসলাম সুমন (৪২) নামের এক স্টাফ অপমৃত্যুর শিকার হন। এঘটনাটিও রহস্যজনক ভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেস্টুরেন্টটিতে কর্মরত স্টাফদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাছির উদ্দিন তাদের প্রায় সময় মানসিক ও শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে আসছেন।
নারী স্টাফদের যৌন হয়রানি: কক্সবাজার সদর মডেল থানার ২০২৩ সালের একটি রেকর্ড বলছে- নাছির তার মালিকানাধীন শালিক রেস্টুরেন্টে ২১ জন উপজাতি নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। সব নারীই বয়সে তরুণী। চাকরির শর্তে তাদের স্টাফ কোয়ার্টারে রাত্রী যাপন বাধ্যতামূলক করা হয়। আর কোয়ার্টারেই প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন চালান বাচ্চু। নির্যাতনের শিকার এক তরুণীকে সহায়তা করার অভিযোগ এনে ওই বছর খালেক ও আবদুল্লাহ নামে দুই কর্মচারী নির্মম ভাবে নির্যাতন চালায় নাছির।
আবদুল্লাহ জানিয়েছেন- শালিকের মালিক কৌশলগত কারণে উপজাতি তরুণীদের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। এসব নারীকে স্টাফ কোয়ার্টার নামের বন্দিশালায় নিয়ে গিয়ে প্রায়ই চালানো হয় যৌন নিপীড়ন। একই সঙ্গে বিভিন্ন হোটেলে পাঠিয়ে যৌনবৃত্তি করতে চাপ প্রয়োগও করা হয়। মূলত তার এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার জের ধরে তাকে ও আবদুল্লাহকে মারধর করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আরোও জানান- উপজাতী তরুণীকে প্রথমে নির্যাতন করা হয়েছে যৌনবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য। এতে অসুস্থ হয়ে সে ওষুধ কিনতে গেলে তাদের সঙ্গে দেখা হয়। এটা জেনে মালিক মনে করেছেন, সে কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছে। আর তাকে সহযোগিতা করছে তারা দুজন। মূলত এর জের ধরেই তাদের নির্যাতন করা হয়েছে।

